জামায়াত নেতাদের প্রশংসা করে ফেসবুকে যা লিখলেন গোলাম রাব্বানী
আদর্শিক সহযোদ্ধার পাশে দাঁড়ানোর দলগত ও ব্যক্তিগত চর্চায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের চেয়ে জামায়াত ও তাদের নেতাকর্মীরা ঢের এগিয়ে’- এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী।
শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।
ফেসবুকে গোলাম রাব্বানী লিখেছেন, “একই নীতি, আদর্শ, চেতনায় বিশ্বাস করা নিজ দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ‘বৃহৎ আদর্শিক পরিবারের সদস্য’ হিসেবে ওউন করা, যেকোনো ন্যায়সংগত প্রয়োজনে ও সংকটে আন্তরিকতা ও সাধ্যের সেরাটা দিয়ে পাশে থাকা, অত্যাবশ্যক রাজনৈতিক গুণ। আপনি স্বীকার করুন বা না করুন, আদর্শিক সহযোদ্ধার পাশে দাঁড়ানোর দলগত ও ব্যক্তিগত চর্চায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের চেয়ে জামায়াত ও তাদের নেতাকর্মীরা ঢের এগিয়ে।
বহু চড়াই-উতরাই, প্রতিকূলতার মাঝেও যা তাদের টিকে থাকার অন্যতম সহায়ক শক্তি, কার্যকর টনিক।”
তিনি আরো লিখেছেন, ‘দলীয় ও ব্যক্তিগত ফান্ডে নেতাকর্মীদের শিক্ষা তথা বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল কোচিং ও দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে সহায়তা, নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানে একচ্ছত্র অগ্রাধিকার, হতাহত ও অসুস্থ নেতাকর্মীদের চিকিৎসা ও আইনগত সহায়তা, পরিবারসহ আর্থিক নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়াসহ এমন বহু প্রাসঙ্গিক কারণে আমাদের নেতাকর্মীরা সেখানে নিদারুণ কষ্ট ও হতাশায় ভোগে, তাদের নেতাকর্মীরা সেথা দলীয় সহায়তায় দারুণ মানসিক জোর পায়! ’৭১-এর ভূমিকাসহ বহুবিধ বিতর্ক-সমালোচনা থাকলেও তাদের আদর্শে বিশ্বাসীদের দায়িত্ব নেওয়ার আপ্রাণ প্রচেষ্টার জন্য তারা অনুকরণীয় প্রশংসার দাবিদার।’
আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতাদের উদ্দেশে ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা বলেন, “বর্তমান সংকটে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী শীর্ষ নেতৃত্বের শুভবুদ্ধি ও অনুধাবন শক্তি জাগ্রত হোক। দ্রুততম সময়ে ‘দলীয় ফান্ড গঠন’ ও সচ্ছল নেতাদের দক্ষিণহস্ত প্রসারের মাধ্যমে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট ও অসহায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের নৈতিক প্রয়োজন ও বিপদে সার্বিক সহায়তা প্রদানের অনিন্দ্য সুন্দর কালচারটা শুরু হোক।
এটা আওয়ামী লীগ ও সব সহযোগী সংগঠনের তৃণমূলের প্রতিটি নেতাকর্মীর অন্তরে লালিত একান্ত চাওয়া ও নিদারুণ প্রত্যাশা।”
কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
রাজনীতি
প্রকাশ: শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০১:৪২
আ. লীগকে বন্ধু বানাতে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে শত্রু বানিয়েছে ভারত : মেজর হাফিজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
অ +
অ –
সংগৃহীত ছবি
ভারত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় না। তারা আওয়ামী লীগকে বন্ধু বানাতে গিয়ে বাংলাদেশের ১৯ কোটি মানুষকে শত্রু বানিয়েছে। আর এটি ভারত সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ গতকাল শুক্রবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন মিলনায়তনে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
‘ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি চেতনার জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনাসভাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট।
হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ বলেন, কেয়ামত পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব থাকার কথা ছিল। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমাদের উত্ত্যক্ত করার কারণেই বন্ধুত্ব নষ্ট হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘সাম্প্রতিককালে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা বক্তব্য দিয়ে নিজেদের দেশকে, নিজেদের সমাজকে তো ধ্বংস করছেন; প্রতিবেশী রাষ্ট্রকেও নষ্ট করছেন।
তাদের মধ্যে ১ নম্বরে রয়েছেন শেখ হাসিনা।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘হিন্দু-মুসলমানের দ্বন্দ্ব আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করেছে। অথচ বাংলাদেশ তো ইসলামিক রিপাবলিক না, এ দেশ তো পিপলস রিপাবলিক। আমরা সব ধর্মের-বর্ণের মানুষকে নিয়ে সুন্দর একটি দেশে বসবাস করতে চাই।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান একটি মুসলিম রাষ্ট্র থাকার পরও এ কারণেই আমরা যুদ্ধ করেছি। আমাদের কাছে মানবতা বড়। গণতন্ত্রের জন্য, মানবতার জন্য যুদ্ধ করেছি। ধর্ম নিয়ে আমরা কারো মন্দির ভাঙতে যাই না।’
হাফিজ বলেন, ভারতের বিজেপি নামের দলটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করেছে।
ভারতবর্ষে তারা এ সম্প্রীতি নষ্ট করেছে। হিন্দুত্ববাদের কোনো দরকার নেই। কিন্তু তারা হিন্দুত্ববাদের বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে।
সভায় গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, দেশে কিছু অপশক্তি এখনো আছে। নানাভাবে নিপীড়ন-নির্যাতনের চেষ্টা করছে। ৫৪ বছর ধরে যত নির্যাতন হয়েছে, আমরা বিচার পাইনি। বিচার না হওয়ার কারণেই নতুন নতুন ঘটনা ঘটছে। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বসুর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সুকোমল বড়ুয়া, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম, ফ্রন্টের নেতা অমলেন্দু অপু প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

Comments
Post a Comment